উৎপাদন: প্রতি একক এলাকায়, প্রতি একক সময়ে, কোন বস্তুর উৎপন্ন মোট পরিমাণকে উৎপাদন বলে। প্রকৃত অর্থে উৎপাদন বলতে বিভিন্ন পরিবেশে জীবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যে সকল জৈব বস্তু উৎপন্ন হয় তাকে উৎপাদন (Production) বলে। এই উৎপাদন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্রের প্রাথমিক উৎপাদন হিসাবে শুরু হয়।
ভূমিকা:
মৎস্য জনসমষ্টির (Fish Population) উৎপাদন বা ফলন নির্ণয়ের জন্য বিজ্ঞানী Allen একটি সহজ রৈখিক বা গ্রাফিক্যাল পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এই পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে
(Δt = t₂ −t₁ ) বেঁচে থাকা মাছের সংখ্যাকে (N) এবং তাদের গড় ওজনকে (ω) ব্যবহার করে একটি রেখাচিত্র বা গ্রাফ অঙ্কন করা হয়।
মূলনীতি:
উৎপাদন যদি খুব অল্প বা ন্যূনতম সময়ের ব্যবধানে (Δt) হিসাব করা হয়, তবে মোট উৎপাদন মূলত ওই সময়ে বেঁচে থাকা মাছের সংখ্যা (N) এবং তাদের ওজন বৃদ্ধির পরিমাণ (Δω) এর গুণফলের সমান হয়।

অর্থাৎ মোট উৎপাদন = N × Δω
নিম্নে একটি কাল্পনিক রেখাচিত্রের সাহায্যে অ্যালেনের পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করা হলো:

১. অক্ষ নির্ধারণ:
গ্রাফের লম্ব অক্ষে (Y-axis) মাছের সংখ্যা (N) এবং ভূমি অক্ষে (X-axis) মাছের গড় ওজন (ω) বসানো হয়।
২. বক্ররেখা অঙ্কন:
সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে মাছের গড় ওজন (ω) বৃদ্ধি পায়, কিন্তু প্রাকৃতিক মৃত্যু বা অন্যান্য কারণে মাছের সংখ্যা (N) হ্রাস পেতে থাকে। বিভিন্ন নির্দিষ্ট তারিখে এই সংখ্যা ও ওজনের বিন্দুগুলো গ্রাফে বসিয়ে যোগ করলে একটি বক্ররেখা পাওয়া যায়, যা ক্রমশ ডানদিকের নিচের দিকে নেমে আসে।
৩. ক্ষেত্রফল ও উৎপাদন (Biomass):
বিজ্ঞানী অ্যালেনের তত্ত্ব অনুযায়ী, অঙ্কিত বক্ররেখাটির নিচের সম্পূর্ণ অংশের ক্ষেত্রফলই হলো ওই নির্দিষ্ট সময়ের মোট মাছের উৎপাদন।
বক্ররেখার নিচের এই ক্ষেত্রফল বা উৎপাদনের পরিমাণ মূলত দুটি উপায়ে মাপা যায়:
১. প্লানিমিটার (Planimeter) যন্ত্রের সাহায্যে: গ্রাফের ওপর এই যন্ত্র বসিয়ে সরাসরি বক্ররেখার ভেতরের ক্ষেত্রফল মাপা যায়।

২. ছক কাগজ (Graph Paper) ব্যবহার করে: রেখাচিত্রটি ছক কাগজে আঁকা হলে, বক্ররেখার নিচের ক্ষুদ্র বর্গক্ষেত্রগুলো গণনা করে খুব সহজেই মোট উৎপাদন নির্ণয় করা যায়।
সতর্কতা:
উৎপাদন নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ডেটা সংগ্রহের মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান রাখা উচিত নয়।
Posted by : মোঃ নাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজ।
🥰