(ক) মৎস্য জীনতত্ত্বের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: মৎস্যবিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের বংশগতি এবং জিনের গঠন নিয়ে সহজভাবে আলোচনা করা হয়, তাকে মৎস্য জীনতত্ত্ব বলে।
(খ) Additive প্রভাব বলতে কী বুঝ?
উত্তর: মাছের কোনো বৈশিষ্ট্যের ওপর যখন একাধিক জিন একসাথে কাজ করে এবং প্রত্যেকের ফল যোগ হয়ে একটি বড় পরিবর্তন আনে, তাকেই Additive প্রভাব বলে।
(গ) হেটারোসিস কী?
উত্তর: দুটি আলাদা জাতের মাছের মিলনে জন্মানো সন্তান যদি তার বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি ভালো ও শক্তিশালী হয়, তবে তাকে হেটারোসিস বলে।
(ঘ) দুইটি পলিপয়েড মাছের বৈজ্ঞানিক নাম লিখ।
উত্তর: (i) Poecilia formosa এবং (ii) Cyprinus carpio।
(ঙ) প্রটোকল কী?
উত্তর: মাছের প্রজনন কোষ বা শুক্রাণু দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখার জন্য যে নিয়ম বা ধাপগুলো মানা হয়, তাকে প্রটোকল বলে।
(চ) ট্রান্সজেনিক মাছ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: জীন পরিবর্তনের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা নতুন ধরনের উন্নত মাছকে ট্রান্সজেনিক মাছ বলে।
(ছ) প্যাথোজেন কী?
উত্তর: যেসব জীবাণু বা অণুজীব মাছের শরীরে রোগ ছড়ায়, তাদের প্যাথোজেন বলে।
(জ) মৎস্য কোয়ারানটাইন বলতে কী বুঝ?
উত্তর: মাছের রোগ ছড়ানো আটকাতে নতুন মাছকে কিছুদিন আলাদা করে রেখে পরীক্ষা করার পদ্ধতিকে কোয়ারানটাইন বলে।
(ঝ) মাছের একটি Cestod পরজীবীর নাম লিখ।
উত্তর: Ligula intestinalis।
(ঞ) ড্রপসি কী?
উত্তর: ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে মাছের পেটে পানি জমে পেট ফুলে যাওয়া এবং আঁইশ খাড়া হয়ে যাওয়াকে ড্রপসি বলে।
(ট) CO₂ বিষক্রিয়া কী?
উত্তর: পানিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেশি হয়ে গেলে মাছের শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং অসুস্থ হয়ে পড়াকে CO₂ বিষক্রিয়া বলে।
(ঠ) গাইরোডাকটাইলোসিস কী?
উত্তর: এক ধরণের ছোট কৃমির কারণে মাছের চামড়া ও পাখনায় যে রোগ হয়, তাকে গাইরোডাকটাইলোসিস বলে।
(ক) পরিপক্ব মাছ কাকে বলে?
উত্তর: প্রজননের জন্য সম্পূর্ণ তৈরি বা ডিম ও শুক্রাণু দেওয়ার উপযুক্ত মাছকে পরিপক্ব মাছ বলে।
(খ) ‘মিল্ট’ কী?
উত্তর: পুরুষ মাছের বীর্য বা শুক্রাণু সংবলিত সাদা তরল পদার্থকে মিল্ট বলা হয়।
(গ) Gynogenesis কী?
উত্তর: এটি প্রজননের এমন একটি পদ্ধতি যেখানে সন্তান মাছের জিনগত বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র তার মায়ের কাছ থেকে আসে, অর্থাৎ শুক্রাণু কেবল ডিম্বাণুকে সক্রিয় করে কিন্তু কোনো জিন দান করে না।
(ঘ) মাছের লিঙ্গ জড়িত বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: যেসব বৈশিষ্ট্য মাছের লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমে (যেমন X বা Y) থাকে এবং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়, তাকে লিঙ্গ জড়িত বৈশিষ্ট্য বলে।
(ঙ) প্যাথোজেনিক পরজীবী কী?
উত্তর: যেসব পরজীবী মাছের শরীরে বাস করে বিভিন্ন ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টি করে, তাদের প্যাথোজেনিক পরজীবী বলে।
(চ) আর্গুলোসিস কী?
উত্তর: আর্গুলুস নামক মাছের উকুনের আক্রমণে মাছের শরীরে যে ঘায়ের মতো রোগ সৃষ্টি হয়, তাকে আর্গুলোসিস বলে।
(ছ) পলিপ্লয়েডি কাকে বলে?
উত্তর: যখন কোনো মাছের শরীরে সাধারণের চেয়ে বেশি সেট ক্রোমোজোম (যেমন তিন বা চার সেট) থাকে, তখন সেই অবস্থাকে পলিপ্লয়েডি বলে।
(জ) মাছের ফুলকার ফ্লুক কী?
উত্তর: এটি এক ধরণের ছোট কৃমি যা মাছের ফুলকায় আটকে থেকে রক্ত চোষে এবং মাছকে অসুস্থ করে ফেলে।
(ঝ) মাধ্যমিক পোষক বলতে কী বুঝ?
উত্তর: পরজীবী যখন তার জীবনচক্র শেষ করার জন্য মাঝপথে কিছু সময়ের জন্য অন্য কোনো প্রাণীর (যেমন শামুক) আশ্রয় নেয়, তখন তাকে মাধ্যমিক পোষক বলে।
(ঞ) VHS-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Viral Hemorrhagic Septicemia (এটি মাছের একটি ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণ রোগ)।
(ট) White spot disease কোনটি?
উত্তর: ‘ইক’ নামক এক ধরণের পরজীবীর কারণে মাছের শরীরে যে সাদা সাদা ছোট দাগের রোগ হয়, সেটিই হলো হোয়াইট স্পট ডিজিজ।
(ক) সেক্স ক্রোমোজোম কী?
উত্তর: প্রাণীর কোষে বিদ্যমান যে নির্দিষ্ট ক্রোমোজোম জোড়া (যেমন- X ও Y) সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে, তাকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে।
(খ) হাইব্রিডাইজেশন কাকে বলে?
উত্তর: দুটি আলাদা প্রজাতি বা আলাদা গুণের মাছের মধ্যে কৃত্রিমভাবে প্রজনন ঘটিয়ে নতুন বৈশিষ্ট্যের উন্নত সন্তান তৈরি করার পদ্ধতিকে হাইব্রিডাইজেশন বলে।
(গ) মোনোজেনেটিক পরজীবী কাকে বলে?
উত্তর: যেসব পরজীবী তাদের পুরো জীবনচক্র শেষ করার জন্য কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর (যেমন- শুধু মাছ) ওপর নির্ভর করে, তাদের মোনোজেনেটিক পরজীবী বলে।
(ঘ) pH কী?
উত্তর: পানির অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের পরিমাণ মাপার এককের নাম হলো pH। এর মান ৭-এর নিচে হলে পানি অম্লীয় এবং ৭-এর ওপরে হলে ক্ষারীয় হয়।
(ঙ) সেক্স রিভার্সাল কী?
উত্তর: হরমোন প্রয়োগ বা অন্য কোনো কৃত্রিম উপায়ে মাছের স্বাভাবিক লিঙ্গ পরিবর্তন করাকে (যেমন- পুরুষ মাছকে স্ত্রী মাছে রূপান্তর) সেক্স রিভার্সাল বলে।
(চ) গাইনোজেনেসিস কী?
উত্তর: এটি এমন এক ধরণের প্রজনন পদ্ধতি যেখানে শুক্রাণু কেবল ডিম্বাণুকে সক্রিয় করে, কিন্তু সন্তানের সব বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র মায়ের কাছ থেকে আসে।
(ছ) হাইপারপ্লাসিয়া বলতে কী বুঝ?
উত্তর: রোগ বা অন্য কোনো কারণে যখন মাছের শরীরে কোষের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং টিস্যুর আকার বৃদ্ধি পায়, তাকে হাইপারপ্লাসিয়া বলে।
(জ) ভ্যারাইটি বলতে কী বুঝ?
উত্তর: একই প্রজাতির মাছের মধ্যে বিশেষ কিছু গুণের পার্থক্যের কারণে যে ছোট ছোট উপ-দল তৈরি হয়, তাদের ভ্যারাইটি বা জাত বলে।
(ঝ) এক্সোটিক মাছ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব মাছ আমাদের দেশের নয়, বরং বিদেশ থেকে চাষের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে (যেমন- থাই পাঙ্গাস বা কার্পু), তাদের এক্সোটিক বা বিদেশি মাছ বলে।
(ঞ) CO₂ বিষক্রিয়া কী?
উত্তর: পানিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে মাছের শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং মাছ অসুস্থ হয়ে পড়ে, একেই CO₂ বিষক্রিয়া বলে।
(ট) অ্যালগাল ব্লুম বলতে কী বুঝ?
উত্তর: জলাশয়ে পুষ্টির পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে যখন শ্যাওলা অতিরিক্ত হারে জন্মে পানির উপরিভাগ ঢেকে ফেলে, তখন তাকে অ্যালগাল ব্লুম বলে।
(ঠ) মিউটাজেনেসিস কী?
উত্তর: কোনো রাসায়নিক বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাবে যখন মাছের ডিএনএ বা জিনের গঠনে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে মিউটাজেনেসিস বলে।
(ক) মাছের আঁইশের বিন্যাস কী?
উত্তর: মাছের শরীরে যে নির্দিষ্ট সাজানো বা নিয়ম মেনে আঁইশগুলো অবস্থান করে, তাকেই মাছের আঁইশের বিন্যাস বলা হয়।
(খ) VHS-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Viral Hemorrhagic Septicemia (এটি একটি ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত রোগ)।
(গ) লিঙ্গ নির্ধারণ কী?
উত্তর: যে জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি মাছের শরীরে তার পুরুষ বা স্ত্রী হওয়ার বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়, তাকে লিঙ্গ নির্ধারণ বলে।
(ঘ) প্রটোকল কাকে বলে?
উত্তর: দীর্ঘ সময়ের জন্য মাছের শুক্রাণু বা প্রজনন উপাদান বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণ করার নির্দিষ্ট নিয়মাবলী বা পদ্ধতিকে প্রটোকল বলে।
(ঙ) পলিপ্লয়েডি কী?
উত্তর: মাছের কোষে সাধারণের চেয়ে বেশি সেট (যেমন- তিন বা চার সেট) ক্রোমোজোম বা জেনেটিক উপাদান থাকাকে পলিপ্লয়েডি বলা হয়।
(চ) ট্রান্সজেনিক মাছ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: জীন প্রকৌশলের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে কোনো মাছের ডিএনএ পরিবর্তন করে যখন নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মাছ তৈরি করা হয়, তাকে ট্রান্সজেনিক মাছ বলে।
(ছ) মাছের লেজ ও পাখনা পচা রোগের একটি জীবাণুর নাম লেখ।
উত্তর: Aeromonas hydrophila (এটি এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া)।
(জ) সিসজেনেসিস কী?
উত্তর: যখন কৃত্রিম প্রজনন বা ল্যাবে কোনো মাছের শরীরে একই প্রজাতির অন্য কোনো মাছের জিন ঢুকিয়ে বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা হয়, তখন তাকে সিসজেনেসিস বলে।
(ঝ) ড্রপসি কী?
উত্তর: ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণে মাছের পেটে তরল জমে পেট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া এবং আঁইশ খাড়া হয়ে যাওয়ার রোগকে ড্রপসি বলে।
(ঞ) ফিশ কোয়ারানটাইন কী?
উত্তর: নতুন আমদানি করা মাছের মাধ্যমে যেন কোনো রোগ না ছড়ায়, তাই সেগুলোকে পুকুরে ছাড়ার আগে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করার পদ্ধতিই হলো কোয়ারানটাইন।
(ট) ফিশ প্যাথোলজি কী?
উত্তর: বিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের বিভিন্ন রোগ, রোগের কারণ, প্রতিকার এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, তাকে ফিশ প্যাথোলজি বলে।
(ঠ) আন্তঃপ্রজনন সমস্যা বলতে কী বুঝ?
উত্তর: খুব কাছের সম্পর্কের মাছের মধ্যে (যেমন- ভাই-বোন বা বাবা-মেয়ের মতো সম্পর্ক) বারবার প্রজনন করালে যদি সন্তানে কোনো শারীরিক ত্রুটি বা বৃদ্ধি কম হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়, তাকে আন্তঃপ্রজনন সমস্যা বলে।
(ক) মৎস্য জীনতত্ত্ব কী?
উত্তর: বিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের বংশগতি, জিনের গঠন, কাজ এবং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বৈশিষ্ট্যের স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে মৎস্য জীনতত্ত্ব বলে।
(খ) GIFT এর পূর্ণরূপ লেখ।
উত্তর: Genetically Improved Farmed Tilapia (এটি জীনগতভাবে উন্নত দ্রুত বর্ধনশীল তেলাপিয়া মাছ)।
(গ) মাতৃকা কী?
উত্তর: কোনো কোষ বা টিস্যুর ভেতরে থাকা যে প্রধান গাঠনিক উপাদানের ওপর অন্য সবকিছু অবস্থান করে, তাকে মাতৃকা বা ম্যাট্রিক্স বলে।
(ঘ) ক্রস ব্রিডিং কী?
উত্তর: দুটি আলাদা প্রজাতি বা গুণের বাবা-মা মাছের মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যের সন্তান মাছ তৈরি করার পদ্ধতিকে ক্রস ব্রিডিং বলে।
(ঙ) ফিনোটাইপ কী?
উত্তর: কোনো মাছের বাইরে থেকে দেখা যায় এমন বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যকে (যেমন- গায়ের রঙ, আকার বা পাখনার গঠন) ফিনোটাইপ বলে।
(চ) লিথাল জিন কী?
উত্তর: মাছের জিনের এমন এক ক্ষতিকর রূপ যা কোনো মাছের শরীরে উপস্থিত থাকলে বা সক্রিয় হলে মাছটির মৃত্যু হতে পারে, তাকে লিথাল জিন বলে।
(ছ) অসংক্রামক রোগ কাকে বলে?
উত্তর: যেসব রোগ পুষ্টির অভাব বা পরিবেশগত কারণে হয় কিন্তু এক মাছ থেকে অন্য মাছে ছড়ায় না, তাদের অসংক্রামক রোগ বলে।
(জ) মাছের রোগ সৃষ্টিকারী একটি ব্যাকটেরিয়ার নাম লেখ।
উত্তর: Pseudomonas spp. (সিউডোমোনাস প্রজাতি)।
(ঝ) মাছের ফুলকা ফ্লুক কী?
উত্তর: এটি এক ধরণের ছোট পরজীবী কৃমি যা মাছের ফুলকায় আটকে থেকে রক্ত শুষে খায় এবং মাছকে দুর্বল ও রোগাক্রান্ত করে ফেলে।
(ঞ) Argulus কোন পর্বের প্রাণী?
উত্তর: এটি আরথ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের প্রাণী।
(ট) প্যাথোজেনিক পরজীবী বলতে কী বুঝ?
উত্তর: যেসব পরজীবী মাছের শরীরে বাসা বাঁধে এবং মাছের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে ক্ষতি করে, তাদের প্যাথোজেনিক পরজীবী বলে।
(ঠ) কোন ভিটামিনের অভাবে ‘নীলকণ্ঠ’ রোগ হয়?
উত্তর: বায়োটিন (Biotin) নামক ভিটামিনের অভাবে মাছের এই নীলকণ্ঠ রোগ হয়।
(ক) সিমবায়োসিস কী?
উত্তর: যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব একে অপরের ওপর নির্ভর করে একত্রে বসবাস করে এবং অন্তত একজন অন্যজন থেকে উপকৃত হয়, তাকে সিমবায়োসিস বলে।
(খ) ট্রান্সজেনিক মাছ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: জীন প্রকৌশলের সাহায্যে যখন কোনো মাছের ডিএনএ পরিবর্তন করে বাইরের নতুন কোনো জিন প্রবেশ করানো হয়, তাকে ট্রান্সজেনিক মাছ বলে।
(গ) Exotic fish কী?
উত্তর: যেসব মাছ আমাদের দেশে আগে ছিল না, বরং বিদেশের জলাশয় থেকে চাষের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে, তাদের এক্সোটিক বা বিদেশি মাছ বলে।
(ঘ) ফিশ কোয়ারেন্টাইন কী?
উত্তর: বাইরে থেকে আনা মাছের মাধ্যমে যেন কোনো সংক্রামক রোগ না ছড়ায়, সেজন্য সেগুলোকে কিছুদিন আলাদা রেখে পরীক্ষা করার নিরাপদ পদ্ধতিকে কোয়ারেন্টাইন বলে।
(ঙ) গাইনোজেনেসিস কী?
উত্তর: এটি এমন এক বিশেষ প্রজনন পদ্ধতি যেখানে শুক্রাণু কেবল ডিম্বাণুকে সক্রিয় করে, কিন্তু সন্তানের সব গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র মায়ের কাছ থেকে আসে।
(চ) ইনব্রিডিং কাকে বলে?
উত্তর: খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাছের মধ্যে (যেমন- ভাই-বোন বা বাবা-মেয়ের মধ্যে) বারবার প্রজনন করানোর পদ্ধতিকে ইনব্রিডিং বা আন্তঃপ্রজনন বলে।
(ছ) মিল্ট কী?
উত্তর: পুরুষ মাছের প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন সাদা রঙের তরল পদার্থকে মিল্ট বলে, যার মধ্যে অসংখ্য শুক্রাণু থাকে।
(জ) সাদা দাগ রোগ কী?
উত্তর: ‘ইক’ নামক এক ধরণের ক্ষুদ্র পরজীবীর কারণে মাছের সারা শরীরে যে সাদা সাদা গুঁড়োর মতো দাগ দেখা যায়, তাকে সাদা দাগ রোগ বা হোয়াইট স্পট ডিজিজ বলে।
(ঝ) EUS বলতে কী বুঝ?
উত্তর: Epizootic Ulcerative Syndrome—এটি মাছের এমন একটি মারাত্মক রোগ যেখানে মাছের সারা শরীরে বড় বড় গভীর ক্ষত বা ঘা তৈরি হয়।
(ঞ) মাছের উত্তরাধিকার কাকে বলে?
উত্তর: মাছের বাবা-মায়ের শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো জিনের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে বা সন্তানদের মধ্যে চলে আসাকে মাছের উত্তরাধিকার বলে।
(ট) ফিশ প্যাথোলজি কী?
উত্তর: মাছের শরীরের বিভিন্ন রোগ, রোগের কারণ, রোগের লক্ষণ এবং রোগ সারানোর উপায় নিয়ে যেখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, তাকে ফিশ প্যাথোলজি বলে।
(ঠ) মিউটাজেন্ট কী?
উত্তর: যেসব বস্তু বা পদার্থের (যেমন নির্দিষ্ট রাসায়নিক বা রশ্মি) কারণে মাছের জিনের স্বাভাবিক গঠনে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন ঘটে, তাদের মিউটাজেন্ট বলে।
(ক) মৎস্য জীনতত্ত্বের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: বিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের বংশগতি, জিনের গঠন এবং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বৈশিষ্ট্যের স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে মৎস্য জীনতত্ত্ব বলে।
(খ) নিষেক কী?
উত্তর: প্রজননের সময় যখন একটি পুরুষ জননকোষ (শুক্রাণু) এবং একটি স্ত্রী জননকোষের (ডিম্বাণু) মিলন ঘটে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে নিষেক বলে।
(গ) প্যাথোজেন কী?
উত্তর: যেসব ক্ষতিকর অণুজীব বা জীবাণু (যেমন- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক) মাছের শরীরে প্রবেশ করে রোগ তৈরি করে, তাদের প্যাথোজেন বলে।
(ঘ) জেনেটিক ড্রিফট কী?
উত্তর: কোনো ছোট এলাকায় মাছের পপুলেশনের মধ্যে জিনের সংখ্যা বা অনুপাতে হঠাৎ করে যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে জেনেটিক ড্রিফট বলে।
(ঙ) মাছের ‘নীল কণ্টক’ রোগ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: বায়োটিন নামক ভিটামিনের অভাবে মাছের এই রোগ হয়। এতে মাছের শরীর থেকে মিউকাস বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং চামড়া খসখসে হয়ে নীলচে দেখায়।
(চ) আর্গুলোসিস কী?
উত্তর: আর্গুলুস নামক মাছের উকুনের আক্রমণে মাছের চামড়ায় যে ক্ষত বা রোগ হয়, তাকেই আর্গুলোসিস বলে।
(ছ) মাধ্যমিক পোষক কী?
উত্তর: কোনো পরজীবী তার জীবনচক্র শেষ করার পথে কিছু সময়ের জন্য যে প্রাণীর শরীরে আশ্রয় নেয়, তাকে মাধ্যমিক পোষক বলে।
(জ) VHS-এর পূর্ণরূপ লেখ।
উত্তর: Viral Hemorrhagic Septicemia (এটি মাছের একটি ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণ রোগ)।
(ঝ) ফিনোটাইপ কী?
উত্তর: কোনো মাছের বাইরে থেকে দেখা যায় এমন বৈশিষ্ট্যকে (যেমন- মাছের রঙ, আকার বা চোখের গঠন) ফিনোটাইপ বলে।
(ঞ) লাইন ব্রিডিং কী?
উত্তর: কোনো বিশেষ গুণের অধিকারী পূর্বপুরুষের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার জন্য যখন তার বংশধরদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রজনন করানো হয়, তাকে লাইন ব্রিডিং বলে।
(ট) ল্যাম্প ব্রাশ ক্রোমোজোম কাকে বলে?
উত্তর: মাছের ডিম্বাণুতে পাওয়া যায় এমন বড় আকারের বিশেষ ক্রোমোজোম যা দেখতে ল্যাম্প পরিষ্কার করার ব্রাশের মতো দেখায়, তাকে ল্যাম্প ব্রাশ ক্রোমোজোম বলে।
(ঠ) কার্প মাছের দুটি সাধারণ রোগের নাম লেখ।
উত্তর: (i) হোয়াইট স্পট বা সাদা দাগ রোগ এবং (ii) আঁইশ পচা বা ড্রপসি রোগ।
(ক) লিথাল জিন কী?
উত্তর: জিনের এমন এক ক্ষতিকর রূপ যা মাছের শরীরে থাকলে বা সক্রিয় হলে মাছটির মৃত্যু ঘটে, তাকে লিথাল জিন বলে।
(খ) প্রটোকল কাকে বলে?
উত্তর: মাছের শুক্রাণু বা বংশগতির উপাদানগুলো দীর্ঘদিনের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষণ করার জন্য যে নির্দিষ্ট ধাপ বা নিয়ম মানা হয়, তাকে প্রটোকল বলে।
(গ) ফিশ কোয়ারেন্টাইন কী?
উত্তর: বাইরে থেকে আসা নতুন মাছের মাধ্যমে যেন কোনো রোগ না ছড়ায়, তাই মাছগুলোকে পুকুরে ছাড়ার আগে আলাদা রেখে পরীক্ষা করার পদ্ধতিকে কোয়ারেন্টাইন বলে।
(ঘ) পলিপ্লয়েডি কাকে বলে?
উত্তর: যখন কোনো মাছের শরীরে সাধারণের চেয়ে বেশি সেট ক্রোমোজোম (যেমন- তিন বা চার সেট) থাকে, তখন সেই অবস্থাকে পলিপ্লয়েডি বলে।
(ঙ) ট্রান্সজেনিক মাছ বলতে কী বুঝ?
উত্তর: জীন প্রকৌশলের মাধ্যমে মাছের ডিএনএ পরিবর্তন করে যখন নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মাছ তৈরি করা হয়, তাকে ট্রান্সজেনিক মাছ বলে।
(চ) Variance কাকে বলে?
উত্তর: পরিবেশ বা জিনের কারণে একই প্রজাতির মাছের মধ্যে যে ছোট ছোট শারীরিক বা চারিত্রিক পার্থক্য দেখা যায়, তাকে ভ্যারিয়েন্স বা প্রকরণ বলে।
(ছ) মাছের প্রত্যয়ন কী?
উত্তর: বাইরে থেকে আনা মাছগুলো রোগমুক্ত কি না বা মানুষের জন্য নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করে যে সরকারি স্বীকৃতি বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়, তাকে মাছের প্রত্যয়ন বলে।
(জ) ক্রায়োপ্রিজারভেশন কী?
উত্তর: অতি নিম্ন তাপমাত্রায় (সাধারণত তরল নাইট্রোজেনে) মাছের শুক্রাণু বা কোষ দীর্ঘ সময় জমিয়ে রেখে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিকে ক্রায়োপ্রিজারভেশন বলে।
(ঝ) লিঙ্গ নির্ধারণ কী?
উত্তর: যে জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি মাছের শরীরে তার পুরুষ বা স্ত্রী হওয়ার বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয়, তাকে লিঙ্গ নির্ধারণ বলে।
(ঞ) পরজীবী কাকে বলে?
উত্তর: যেসব প্রাণী খাদ্যের জন্য অন্য কোনো মাছের শরীরের ভেতরে বা বাইরে বাস করে এবং মাছের ক্ষতি করে, তাদের পরজীবী বলে।
(ট) ইনব্রিডিং কাকে বলে?
উত্তর: খুব কাছের সম্পর্কের মাছের মধ্যে (যেমন- একই বাবা-মায়ের সন্তান) বারবার প্রজনন করানোর পদ্ধতিকে ইনব্রিডিং বা আন্তঃপ্রজনন বলে।
(ঠ) Exotic fish কী?
উত্তর: যেসব মাছ আমাদের দেশের নয়, বরং বিদেশের নদী বা সমুদ্র থেকে চাষের জন্য আনা হয়েছে (যেমন- কার্পু বা সিলভার কার্প), তাদের এক্সোটিক মাছ বলে।
🔐 You must be Logged In to post a comment.
Login to Comment | Create Account