আগে মানুষ মনে করত সমুদ্রের নিচটা একদম সমতল। কিন্তু আসলে সেখানেও পাহাড়, ফাটল আর উপত্যকা আছে। দুই পাশে উঁচু পাহাড় বা টিলার মাঝে যে নিচু জায়গা থাকে, তাকেই উপত্যকা বলে। এগুলো মূলত নদীর কাজ, ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির কারণে তৈরি হয়েছে।
সমুদ্র তলদেশের এই উপত্যকাগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
এগুলো সাধারণত উপকূলের কাছাকাছি কম গভীর এলাকায় থাকে। এগুলো তৈরির ৩টি প্রধান কারণ হলো:
এগুলো হলো সমুদ্রের নিচের সবথেকে আকর্ষণীয় এবং গভীর উপত্যকা। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত আগ্নেয়গিরি থেকে যখন অগ্নুৎপাত ঘটে, তখন লাভা জমে মোচাকৃতির পাহাড় ও এর চারপাশে ঢালু ভূমি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলে এমন অনেক ঢাল দেখা যায়।
গভীর সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত অত্যন্ত বিস্তৃত এবং সমতল এলাকাকে অতলস্পর্শী সমভূমি বলে। এটি সমুদ্রের সবথেকে শান্ত এবং মসৃণ অঞ্চল।
সমুদ্রের তলদেশের বিশাল এলাকা জুড়ে যখন বাটির মতো বা গামলার মতো নিচু জায়গা তৈরি হয়, তাকে গর্ভক্ষেত্র বা বেসিন বলে। এর চারপাশ সাধারণত উঁচু পাহাড়ি এলাকা দিয়ে ঘেরা থাকে।
সমুদ্রের তলদেশের যেসব গভীর অংশ ৩০০০ ফ্যাদম বা ১৮,০০০ ফুটের চেয়েও বেশি গভীর হয়, সেগুলোকে টেকনিক্যাল ভাষায় ‘ডিপ’ বা গর্ত বলা হয়।
সমুদ্রের সমতল তলদেশের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া দীর্ঘ এবং সরু পানির পথকে গভীর সমুদ্রের খাল বলে। এগুলো অনেকটা সমুদ্রের নিচের খালের মতো কাজ করে।
সমুদ্রের তলদেশে উঁচু পাহাড়ের ঢালে যখন সিঁড়ির মতো লম্বা ও সমতল ধাপ দেখা যায়, তাকে গভীর সমুদ্রের চত্বর বলে। এটি সমুদ্রের নিচের এক অনন্য গঠন।
দুটি উঁচু শৈলশিরা বা পাহাড়ের মাঝখানে যখন কোনো সরু ফাটল বা গর্তের মতো পথ থাকে যা পাহাড়কে আড়াআড়িভাবে কেটে যায়, তাকে খাঁজ বলা হয়।
সমুদ্রের তলদেশ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত কিন্তু ওপরের দিকটা টেবিলের মতো চ্যাপ্টা বা সমতল বিশাল ভূমিকে মালভূমি বলে।
সমুদ্রের নিচে মাইলের পর মাইল জুড়ে বিস্তৃত দীর্ঘ পাহাড়ের সারিকে শৈলশিরা বলে। যেমন আটলান্টিক মহাসাগরের মিড-আটলান্টিক রিজ।
এটি সমুদ্রের তলদেশের একটি উঁচু অংশ যা দুটি গভীর বেসিন বা গর্তকে একে অপরের থেকে আলাদা করে রাখে। এটি প্রাকৃতিক বাঁধের মতো কাজ করে।
সমুদ্রের তলদেশে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট গোলগাল বা নিচু পাহাড়গুলোকে টিলা বলা হয়। এগুলো উচ্চতায় খুব একটা বেশি হয় না।
সমুদ্রের তলদেশ থেকে হঠাৎ খাড়াভাবে উপরে উঠে আসা বিচ্ছিন্ন পাহাড়কে সী-মাউন্ট বলে। এদের চূড়া সাধারণত সুচালো বা সরু হয়।
সমুদ্রের তলদেশের সবথেকে গভীর, লম্বা ও সরু ফাটলকে খাত বলে। প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ পৃথিবীর গভীরতম খাত।
সমুদ্রের মাঝে প্রবাল কীটের দেহ জমে যখন আংটির মতো গোল দ্বীপ তৈরি হয় এবং মাঝখানে জল থাকে, তখন তাকে প্রবাল বলয় বা অ্যাটল বলে।
হিমবাহের কারণে পাহাড়ের গায়ে যে গভীর ও সরু খাড়ির সৃষ্টি হয় এবং পরে সমুদ্রের পানিতে পূর্ণ হয়, তাকে ফিওর্ড বলে। নরওয়েতে এটি বেশি দেখা যায়।
অগণিত প্রবাল কীটের দেহাবশেষ সমুদ্রের অগভীর অংশে বছরের পর বছর জমে যখন পাহাড় বা দেয়ালের মতো উঁচু হয়ে ওঠে, তাকে প্রবাল প্রাচীর বলে।
🔐 You must be Logged In to post a comment.
Login to Comment | Create Account